কালিহাতীতে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে বন্যার পানি

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কুড়িঘড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বন্যার পানি

কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

গত কয়েক দিনে যমুনা নদীর পানি বাড়ার কারণে কালিহাতী উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ও ক্লাশরুমে পানি ঢুকেছে। উপজেলার গোহালিয়াবাড়ি, সল্লা, দুর্গাপুর, দশকিয়া ও নারান্দিয়া ইউনিয়ন এবং এলেঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে বন্যার পানিতে থই থই করছে।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের আলীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পটল উচ্চ বিদ্যালয়, সল্লা সমবায় উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী শমসের আলী স্কুল এন্ড কলেজ, গোহালিয়াবাড়ি মাদ্রাসা, চরবাঁশী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরনগরবাড়ি বিএম কলেজ, হাতিয়া যমুনা কলেজ, কুড়িঘড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনোয়ারা হাসেম উচ্চ বিদ্যালয়, বেড়ীপটল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরও বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ গত কয়েক দিন ধরে পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে। এদের মধ্যে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ এবং অফিসকক্ষেও পানি ঢুকে গেছে। যমুনা নদীর পানি এভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকলে আগামি দুই একদিনের মধ্যেই আরও নতুন নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা থাকলেও এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং অভিভাবকমন্ডলী।

এ বিষয়ে পটল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, পরিস্থিতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এর মধ্যেও আমরা প্রতিষ্ঠান খোলার ও ক্লাশে পাঠদানের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে অবস্থা আরও ভয়াবহ হলে ক্লাশে পাঠদানপ্রকৃয়া সম্ভব নাও হতে পারে। চরনগরবাড়ি বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। বন্যার পানি কমে গেলেও রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি থেকে পানি না নামা পর্যন্ত শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলেও তিনি মনে করেন। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা তানজিন অন্তরা বলেন, বিষযটি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। নিয়মিত বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করছি। এছাড়াও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে খোঁজখবর রাখছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আলোচনা করে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।