করোনাকালে দাফনে ভরসা ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’ ১০৭টি লাশ দাফন

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

করোনাকালে লাশের গোসল ও কাফন-দাফনের জন্য অন্যতম ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শেষ বিদায়ের বন্ধু। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ভয়ে মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্নে যখন কেউ এগিয়ে আসেননি, তখন ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’ এর সদস্যরা এগিয়ে আসেন। গত বছরের ৮ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০৭ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করা ব্যক্তির দাফন কাজ সম্পন্ন করেছে তারা। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আর্থিক সহায়তায় লাশ পরিবহনের জন্য এ্যাম্বুলেন্স ক্রয়, সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়, লাশের গোসল দেওয়া ও সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থায়ী কার্যালয় রয়েছে তাদের।

বর্তমানে এ সংগঠনের চলমান সেবা সমূহের মধ্যে রয়েছে, করোনা পজেটিভ, বেওয়ারিশ এবং যে কোন মৃত ব্যাক্তির দাফন-কাফনের ব্যবস্থা, লাশ ধোয়ানোর ব্যবস্থা, ২৪ ঘন্টা এ্যামু্বলেন্স সার্ভিস ও অক্সিজেন সার্ভিস, এতিম, দরিদ্র ও অসচ্ছলদের সহায়তা, দুর্যোগকালীন ত্রাণ সহায়তা, ফ্রি কাফনের কাপড় বিতরণ কার্যক্রম। এছাড়া লাশ দাফনকারী সংস্থা আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম চট্টগ্রাম শাখার পরার্মশে সংগঠনের কার্যক্রম সময়োপযোগী করার পরকিল্পনা গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। ‘শেষ বিদায়ের বন্ধু’ সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক ও মিরসরাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল আলম জানান, করোনা ভাইরাস আসার পর আক্রান্ত ব্যক্তির দাফনে যখন কেউ এগিয়ে আসেনি, লাশ পড়ে থাকলেও যখন কেউ উদ্যোগ নেয়নি তখন আমরা ‘শেষ বিদায়ের বন্ধ’ু সংগঠন গঠনের উদ্যোগ নিই। পরবর্তীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ওয়ার্লেস এলাকায় সংগঠনটির স্থায়ী কার্যালয় নির্মাণ করা হয়। জনপ্রতিনিধি, ডাক্তার, সাংবাদিক, মাদরাসার শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আর্থিক সহযোগিতায় সংগঠনটি দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। ধীরে ধীরে সংগঠনের সেবা মিরসরাইয়ের সীমানা ছড়িয়ে পড়ে পাশ্বর্বতী উপজেলা ও জেলায়। বর্তমানে সংগঠনের উদ্যোগে লাশের গোসল, কাফন-দাফন, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও অক্সিজেনসেবাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।