কটিয়াদীতে রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা উৎপাদনের আশা

ভুট্টা ক্ষেত

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রতি বছর ইরি-বোরো ধান কাটা মৌসুমে স্থানীয় চাষিরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় এবং বাজারে প্রচুর চাহিদা ও ভালো দাম থাকায় চরাঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ভুট্টা চাষ। রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা উৎপাদনের আশা করেছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পৌরসভার ব্লকের বেথৈর গ্রামের কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৭০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।অন্য ফসলের তুলনায় কম খরচে অধিক ফলন ও বেশী লাভ হওয়ার পাশাপাশি বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় ১ শত হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন এবং বাম্পার ফলনের আশা করছেন তারা। ভুট্টা অত্যন্ত লাভজনক একটি ফসল।গবাদিপশুর খাদ্য ও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে অনেক কৃষক ভুট্টা চাষ করছেন। ফলে উপজেলার পতিত জমিগুলো ভুট্টা চাষের আওতায় আনা হচ্ছে। এই রবি মৌসুমে কৃষকরা অন্যান্য আবাদের চেয়ে ভুট্টা চাষে বেশি ঝুকছে এবং চরাঞ্চলের চেহারা পাল্টে যাচ্ছে। এখন অন্যান্য ফসল আবাদ বাদ দিয়ে কৃষকরা ভুট্টা চাষে উৎসাহী হচ্ছে।

উপজেলার পৌরসভার বেথৈর গ্রামের কৃষক আব্দুল হাসিম জানান, ভুট্টা চাষ করতে সার ও সেচ কম লাগে, ফলন অন্য ফসলের তুলনায় বেশী হয়। তাই ধান চাষ না করে ভুট্টা চাষ করছি। আমি এ বছর ৭০ শতাংশ জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। আশা করছি বেশ ভালো ফলন পাবো।
এ গ্রামের আরেকজন প্রান্তিক কৃষক মল্লিক মিয়া বলেন, এক বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করতে খরচ হয়েছে ৬-৭ হাজার টাকা এবং বিক্রি হবে ৩০-৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া আমরা ভুট্টার পাশপাশি খড়ের বদলে গরু-ছাগলের এক বছরের খোরাক পাব ও লাকড়িও পাব।যা জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।
পৌরসভার ব্লকের উপ সহকারী মোঃ আবু ছিদ্দিক জানান,আমরা ভুট্টার আবাদ বাড়ানোর জন্য ব্যাপক কর্মসূচী নিয়েছি এবং সার,বীজসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ সবসময় দিয়েছি। আমাদের এলাকায় ব্যাপক ভুট্টার আবাদ হয়েছে ও আগামীতে দ্বিগুন ভুট্টার আবাদ বাড়বে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মুকশেদুল হক জানান, উপজেলার জমিগুলো ভুট্টা চাষের উপযোগী। বাণিজ্যিক কৃষির সম্প্রসারণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। লাভজনক এই ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে কৃষি অফিস থেকে সব রকম পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আমরা ভুট্টার আবাদে সফল হয়েছি। আশা করছি বর্তমান সময়ে যেভাবে ভুট্টার আবাদ হচ্ছে সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং আরো বৃদ্ধি পাবে।