ওদের খেলায় ফেরার আকুতি

ওরা খেলায় ফিরতে চায়

স্পোর্টস ডেস্ক

বিসিবি কার্যালয়ের নীচতলায় লাউঞ্জ রুমের সামনে সকাল থেকেই হাজির বিভিন্ন ক্লাবের ক্রিকেটাররা। ডাক পড়তেই একের পর এক রুমে প্রবেশ করছেন, হাসিমুখে খাম সমেত বের হচ্ছেন। কেউ খাম খুলে দেখছেন, কেউবা দ্রুতবেগে ব্যাগে রেখে দিচ্ছেন।

করোনাকালে দ্বিতীয় বার বিসিবির প্রতিশ্রুত অনুদানের টাকা নিতে গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে এসেছিলেন শখানেক ক্রিকেটার। নির্ধারিত সময়ে অর্থ না পাওয়া এসব ক্রিকেটারদের মধ্যে গতকাল অনুদান বিতরণ করেন ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) কর্মকর্তারা। শেষ ধাপে টাকা পেয়েছেন তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগের ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেটাররা।

এবার পুরুষ-নারী মিলে ১ হাজার ৭২০ ক্রিকেটারকে প্রায় ২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে বিসিবি। শুধু সিসিডিএম ১ হাজার ৪০০ ক্রিকেটারকে অনুদান পৌঁছে দিয়েছে। যেখানে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের ক্রিকেটাররা ১৫ হাজার করে টাকা পেয়েছেন। প্রথম বিভাগে ১২ হাজার, দ্বিতীয় বিভাগে ১০ হাজার ও তৃতীয় বিভাগের ক্রিকেটাররা ৮ হাজার করে টাকা পান।

বিসিবির অনুদানের অর্থ পেলেও এসব ক্রিকেটারদের মনে অস্বস্তি, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা। কারণটাও বাস্তবিক। গত দুই বছর ধরে মাঠের বাইরে তারা। করোনার কারণে ক্লাব ক্রিকেটের নিচের দিকের লিগগুলো বন্ধ হয়ে আছে। ক্রিকেট যাদের পেশা ছিল, আয়ের মূল উত্স ছিল, তারা অনেকে পেশা বদলে ফেলেছেন। কেউ কেউ দেশের আনাচে-কানাচে ছোট ছোট টুর্নামেন্ট খেলে টিকে আছেন, কিন্তু আর্থিক সংকটে দিন কাটছে তাদের। সবার একটাই চাওয়া দ্রুত লিগ শুরু হোক। মাঠে ফেরার আকুতিই ঝরল ওরিয়েন্টের ক্রিকেটারদের কণ্ঠে।

ক্লাব ক্রিকেটে শেষবার প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের নভেম্বরে, দ্বিতীয় বিভাগ হয়েছিল ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এবং তৃতীয় বিভাগ হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে।

গতকাল ওরিয়েন্টের ক্রিকেটার আল-আমিন সৌরভ বলছিলেন, মাঠে লিগ খেলার স্মৃতি যেন ক্রমশই দূরে চলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে ক্রিকেট খেলেছিলাম, যখন লিগ হয়েছিল। করোনাকালে তো আমাদের সব খেলাই বন্ধ। প্র্যাকটিস সবাই করে যাচ্ছে। কিন্তু খেলাটা বন্ধ, এটা আমাদের জন্য কাম্য না।’

অনুদান পেয়ে বিসিবিকে ধন্যবাদ জানান এ তরুণ ক্রিকেটার। বলেছেন, ‘বিসিবি আমাদের প্রণোদনা দিয়েছে। অঙ্কটা কম। কিন্তু এটাও অনেক কিছু, অন্তত এই সময়ের জন্য। এটা প্লেয়ারদের জন্য অনেক সাহায্য হয়েছে।’

লিগ বন্ধ থাকায় নানা দিক থেকে ক্ষতির মুখে পড়ছেন ক্রিকেটাররা। সৌরভ বলেন, ‘খেলা না থাকলে আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি হয়, ফিটনেসে পিছিয়ে পড়ে। আর্থিকভাবেও বড় ক্ষতি। অনেকের পেশাই ছিল ক্রিকেট খেলা। এটাই ছিল রুটি-রুজি। পেশা পরিবর্তন করা ছাড়া উপায় ছিল না। দুই বছর ধরে খেলা বন্ধ। বলার মতো পরিস্থিতি নেই।’

দ্রুত খেলায় ফেরার অপেক্ষায় ক্রিকেটাররা। বিসিবির কাছে সৌরভদের আকুতি এমন, ‘আমরা সবাই মুখিয়ে আছি খেলায় নামতে। অবশ্যই, সবাইকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনার পর বা সুরক্ষা বলয় তৈরি করে যদি ক্রিকেটটা চালু করা যায় তাহলে ক্রিকেটারদের উপকার হবে। বহু ক্রিকেটার এ অপেক্ষাতেই আছেন।’