আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জনবল কাঠামো নিয়ে অসন্তোষ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএমএম সাজ্জাদুর রহমান বলেন, দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে মন্ত্রণালয় জনবল কাঠামো চূড়ান্ত করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। উদ্ভ‚ত পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিরসন করার চেষ্টা করা হচ্ছে

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) উৎপাদন দিন দিন বাড়লেও কমছে কারিগরি বিভাগের জনবল। গত ১২ বছরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন নতুন ইউনিট নির্মণের মাধ্যমে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে তিনগুণ। পক্ষান্তরে অনুমোদিত জনবল কাঠামোতে কারিগরি বিভাগের জনবল ৭ শতাংশ কমিয়ে অকারিগরি জনবল ৭ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত কারিগরি বিভাগের (টেকনিকেল) কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ। অনুমোদিত জনবল কাঠামো সংশোধনের দাবীতে শনিবার সকালে এপিএসসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে বৈঠক করেছে প্রকৌশলীদের বিভিন্ন সংগঠন। বিষয়টি দ্রæত নিরসনের আশ্বাসে দুপুরে বৈঠকটি শেষ হয়।

প্রকৌশলীদের দাবি, এই জনবল কাঠামো বাস্তায়িত হলে কারিগরি জনবল হ্রাস, পদোন্নতি বন্ধ ও ভবিষ্যতে বিভিন্ন কারনে কারিগরি পদগুলো বিলুপ্ত হতে পারে। শুধু তাই নয় কারিগরি জনবলের অভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে অকার্যকর ও লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিনত হওয়ার আশংকা রয়েছে। এই জনবল কাঠামো স্থগিত ও বাস্তবসম্মত যৌক্তিক জনবল কাঠামো তৈরির দাবিতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছে পানি ও বিদ্যুৎ প্রকৌশলী সমিতি ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইবি) আশুগঞ্জ শাখা। এদিকে সিবিএ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা না করে জনবল কাঠামো চুড়ান্ত করায় তারাও ক্ষুব্ধ এবং তা স্থগিত করে শ্রমিক-কর্মচারি স্বার্থযুক্ত যৌক্তিক জনবল কাঠামোর দাবি জানান। অন্যথায় তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন।

বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এপিএসসিএল এর নতুন জনবল কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে ২০১৪ সালে ‘আর্নেস্ট এন্ড ইয়ং এলএপি’ নামক একটি বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ৭ বছর এপিএসসিএল এর বিভিন্ন উপ-কমিটির সাথে ৫০টির বেশি, কোম্পানির পরিচালনা পর্যদের একাধিক এবং মন্ত্রণালয়ের উপ-কমিটির ৭টি সভায় আলোচনা-পর্যালোচনা শেষে একটি জনবল কাঠামো প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পেশ করেন । উক্ত জনবল কাঠামোতে ৮১৬ জন কারিগরি (শতকরা ৬৪ ভাগ) এবং নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) ও মহাব্যবস্থাপক পদসহ ৪৬৬ জন (শতকরা ৩৬ ভাগ) অ-কারিগরি জনবলের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা গত ২৮ অক্টোবর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জনবল কাঠামো চূড়ান্ত হয়।

কারিগরি কর্মকর্তাদের দাবী, ২০১০ সনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এর আওতাধীন আশুগঞ্জ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডে (এপিএসসিএল) রুপান্তরের সময় জনবল কাঠামোতে ৬৬৭ জন কারিগরি (শতকরা ৭১ ভাগ) এবং ২৭০ জন (শতকরা ২৯ ভাগ) অ-কারিগরি জনবল ছিল। কিন্ত চুড়ান্ত জনবল কাঠামোতে অ-কারিগরি পদ বৃদ্ধি করে কারিগরি জনবল ৭% কমানো হয়। এতে কারিগরি বিভাগের, পদোন্নতিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি এপিএসসিএল এর পুরাতন ৩টি ইউনিট বন্ধ হলে আরো ৩৪১ জন কারিগরি পদ বিলুপ্ত বা কর্মকতারা চাকুরিহীন হয়ে পড়ার আশংকাও রয়েছে। এ ব্যাপারে এপিএসসিএল এর শ্রমিক-কর্মচারি লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো চুড়ান্ত করার আগে আমাদের সাথে কথা বলা হয়নি। তিনি আনুপাতিক হারে (১:৫:২৫) কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পদ সৃষ্টি ও পদোন্নতির দাবি জানিয়ে প্রস্তাবিত চুড়ান্ত জনবল কাঠামো স্থগিতের দাবি জানান।

এব্যাপারে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের প্রধান প্রকৌশলী শাহ আলম খান জানান, অনুমোদিত জনবল কাঠামো একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে মাথাভারি প্রশাসনে পরিণত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটি বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে উদ্ভুত বৈষম্যসমুহ নিরসনে উক্ত জনবল কাঠামো স্থগিত করে প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ সুষমকরণের দাবী জানান তিনি।
এব্যাপারে আশুগঞ্জ বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান ভুইয়া জানান, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কোন মতামত না নিয়ে প্রকৌশলীদের অন্ধকারে রেখে জনবল কাঠামো চুড়ান্ত প্রস্তাব করেছে। যা অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্খিত। এতে আমরা হতাশ এবং চাকরি নিয়ে শঙ্কিত। উক্ত জনবল কাঠামো বাস্তবায়িত হলে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আধুনিক মেশিনারিজ চালিয়ে রাখার বিষয়টি হুমকির মুখে পড়বে। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএমএম সাজ্জাদুর রহমান বলেন, দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে মন্ত্রণালয় জনবল কাঠামো চ‚ড়ান্ত করেছে। এই বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিরসন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।