বাড়ি প্রচ্ছদ আশুগঞ্জে ধানের দাম চড়া বন্ধ হওয়ার পথে চাতাল দুশ্চিন্তায় মালিকরা

আশুগঞ্জে ধানের দাম চড়া বন্ধ হওয়ার পথে চাতাল দুশ্চিন্তায় মালিকরা

 সোনারামপুর এলাকায় একটি চাতালকলে ধান শুকানোর কাজ করছেন শ্রমিকরা

জেলা চাতালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. বাবুল আহম্মেদ জানান, গত এক মাস যাবত বাজারের ধান ও চালের বাজার উর্ধমুখী। মিল মালিকরা প্রতি টনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লোকসান দিচ্ছেন

আশুগঞ্জ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

আশুগঞ্জে পর্যাপ্ত ধানের আমদানি থাকলেও দাম চড়া। ধানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চালের দামও। এই উচ্চ মূল্যে ধান কিনে চালে রূপান্তর করে লাভবান হতে পারছেন না চাতালকল মালিকরা। এতে উপজেলার চাতালকলগুলো বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে ধান ও চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহ করতে গিয়েও বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওরাঞ্চলের উত্পাদিত ধান দিয়ে চলে আশুগঞ্জ উপজেলার অর্ধসহস্রাধিক চাতালকল। মোকামে গিয়ে ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি মণ মোটা দানা ৯৬০ থেকে ১ হাজার টাকা, বিআর-২৯ ধান ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকা, বিআর-২৮ ধান ১২০০ থেকে ১২৬০ টাকা দরে বেচাকেনা হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় প্রতি মণ ধান বাজারে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশী দরে বিক্রি হচ্ছে।

 

স্তূপীকৃত শুকনো ধানের বস্তা

আশুগঞ্জ চাতালকল মালিক মো. কামরুজ্জামান রিপন জানান, প্রতি মণ ধানে ২৩ থেকে ২৪ কেজির বেশী চাল হচ্ছে না। এক হাজার টাকায় প্রতি মন ধান কিনে চালে রূপান্তর করে সরকারি খাদ্য গুদামে পৌছানো পর্যন্ত খরচ হয় প্রতি কেজিতে ৪২ থেকে ৪৩ টাকা। কিন্ত সরকার প্রতি কেজি চালের দাম নির্ধারণ করেছে ৪০টাকা। এভাবে ধানের দাম বাড়তে থাকলে চাতালকলগুলো চালু রাখা সম্ভব হবে না।

জেলা চাতালকল মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল্লাহ জানান, মিল মালিকরা বর্তমান দামে ধান কিনে চালের বাজারের সাথে সামঞ্জস্য না থাকায় সরকারি গুদামে চাল সরবরাহ করতে গিয়ে প্রতি টনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লোকসান গুনছেন। গুদামে পুরোপুরি চাল সরবরাহ দিতে গেলে চাতালকল মালিকদের প্রায়  ৫ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হবে। এছাড়া চাল আমদানী বন্ধ এবং সরকারি ভাবে প্রতি মণ ধান ১০৮০ টাকা দর নির্ধারন করে সারা দেশে অতিরিক্ত ধান সংগ্রহ করায় ধান ও চালের বাজারে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ.কে.এম মাইনুর খাইর জানান, জেলার মোট বরাদ্দের অধিকাংশ চালই আশুগঞ্জ থেকে সরবরাহ হয়ে থাকে। সরকারি মূল্যের চেয়ে বাজারে চালের দাম বেশী হওয়ায় মিল মালিকরা চুক্তিবদ্ধ হয়ে চাহিদা মোতাবেক চাল সরবরাহ করছেন না। মিল মালিকদের আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী বাকী ১২ হাজার টন চাল সরবরাহ করার জন্য মাইকিংক করে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

জেলা চাতালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. বাবুল আহম্মেদ জানান, গত এক মাস যাবত বাজারের ধান ও চালের বাজার উর্ধমুখী। এরপর মিল মালিকরা প্রতি টনে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা লোকসান দিয়ে লক্ষ্যমাত্রার দুই তৃতীয়াংশ চাল সরবরাহ করেছেন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদেরকে সময় বাড়িয়ে দিলে চুক্তি অনুযায়ী বাকী চালগুলো সরবরাহের চেষ্টা করবো।