আমরা আর কত ভর্তুকি দেব: প্রধানমন্ত্রী

ইত্তেহাদ প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা আর কত ভর্তুকি দেব? আমাদের কতটুকুই বা সম্পদ আছে? বাস্তবতাটা সবাইকে বুঝতে হবে। তবে মানুষের কষ্ট যেন না হয় সে বিষয়ে আমরা সব সময়ই আন্তরিক।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে সদ্যসমাপ্ত সফর নিয়ে বুধবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বুধবার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে এক প্রশ্ন জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেখুন আমাদের সামর্থের দিকটাও আপনাদের দেখতে হবে। বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমাদের কিছু করার থাকে না। কারণ তখন তো আমাদেরও উচ্চ দামে তা কিনতে হয়। আপনারা কি জানেন, শুধু জ্বালানি তেলেই বছরে আমাদেরকে ২৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়।জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, সারসহ বিভিন্ন খাত মিলিয়ে সরকারকে বছরে ৫৩ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। বিদ্যুতেও ভর্তুকি দিচ্ছি। উৎপাদন খরচও তুলতে পারছি না। সারের দামেও অনেক ভর্তুকি দিতে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কৃষকদেরও ভর্তুকি দিচ্ছি। এখন ভর্তুকির টাকা সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে যায়। ১০ টাকায় কৃষকরা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। সরাসরি টাকা তাদের হাতে চলে যাচ্ছে। আমরা কিন্তু সব রকম ব্যবস্থা নিচ্ছি।

করোনা সঙ্কটকালের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনার সময়ে আমরা সব শ্রেণির মানুষকে সহায়তা করেছি। একবার নয়। বারবার সহায়তা দিয়েছি। জিনিসপত্রের দাম যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেই ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। আপনারা জানেন, করোনায় বিশেষ প্রণোদনা দিয়েছি। প্রতিটি ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে চালু থাকে, শ্রমিকরা বেতনটা যেন পায় সেজন্য প্রণোদনা দিয়েছি। অথচ আমাদের কী এমন সম্পদ আছে? প্রতিটা দেশে হাহাকার চলছে। ইউরোপের সুপারশপগুলো খালি। আমাদের সবাইতো টাকা উপার্জন করে। কিন্তু কতজন সত্যিকারভাবে ট্যাক্সটা দেয়?

সরকারপ্রধান বলেন, ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার দিকেই সবার লক্ষ্য। তাহলে সরকারের টাকাটা আসবে কোত্থেকে! তাহলে কি দেউলিয়া হয়ে যেতে হবে? এ দেশ আমার। আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছেন। এদেশের মাটি-মানুষ সম্পর্কে আমার জানা আছে। মানুষের কষ্ট যেন না হয় সে ব্যাপারে আমি সব সময়ই ভাবি।

সংবাদ সম্মেলনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের হেরে যাওয়া নিয়ে হতাশা প্রকাশ না করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা এতো হতাশ হন কেন? আমি এই হতাশা আর দেখতে চাই না।

শেখ হাসিনা বলেন, কয়েকটা খেলা তো তারা (ক্রিকেট দল) চমৎকার খেলেছে। কখন যে ব্যাটে বলে ঠিক মতো লাগবে, ছক্কা হবে তাতো বলা যায় না। সবসময় সব অংক মেলে না। এটাও বাস্তব কথা।

তিনি বলেন, আমরা যেটা আশা করেছিলাম, আমাদের খেলোয়াড়রা তা খেলতে পারেনি। তাই বলে আমি কিন্তু আমাদের ছেলেদের কখনও হতাশ করিনি। আমি তাদের বলি, আরও ভালো খেল। আরও মনোযোগী হও, আরও অনুশীলন করো। করোনার কারণে তারা অনুশীলন করতে পারেনি। তারপরও বাংলাদেশ আজ বিশ্বকাপে খেলছে, বেশ কয়েকটি দেশকে হারাতে পেরেছে, এটাই তো বড় কথা।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমি চাচ্ছি তাদের আরও বেশি অনুশীলন করানো। আরও ভালো যেন খেলতে পারে সে ব্যবস্থা করা। সুতরাং কথায় কথায় এত হতাশ হওয়া তো ঠিক নয়। এটাই আমাদের একটা মানসিক সমস্যা হয়ে গেছে। একটুতেই হতাশ। বেশি হতাশ হওয়া যাবে না। মাঝামাঝি থাকতে হবে। আগামীতে নিশ্চয়ই (ক্রিকেটাররা) ভালো করবে। নতুন প্রজন্ম আসছে, তারা ভালো করছে।