আপত্তি থাকলেও মোদির সফর নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু দেখছেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফর নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে আপত্তি তোলা হলেও, এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ দেখছেন না পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সব ধরনের প্রটোকল দেব।

শনিবার (২০ মার্চ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বিভিন্ন মতের লোক আছে। প্রত্যেকের মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে কেউ কেউ প্রচারণা করছেন যেন তিনি না আসেন, এটা তাদের বক্তব্য। সরকার ওনাকে দাওয়াত দিয়েছে। আমরা খুব গর্বিত যে তিনি আসবেন। আমরা তাকে সব ধরনের প্রটোকল দেব। এটাতে সন্দেহের কোনো কারণ নেই।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা যেভাবে করেছি সেভাবেই হবে। যেসব সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান আসছেন তাদের প্রত্যেককে আমরা প্রয়োজনীয় প্রকোটল দিচ্ছি। দেশবাসীও চায় আমরা জনগণকে নিয়ে কাজ করি। আওয়ামী লীগ সরকারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জনগণ নিয়ে কাজ করা। দুয়েকজন লোক এ ধরনের অভিযোগ করতে পারে এটা নিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তা নেই।

মোদির সফর ইস্যুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, পাঁচজন রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান বাংলাদেশ সফর করবেন। তাদের এ সফরের মূল কারণ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি। যারা ভিন্ন মতামত দিচ্ছেন তাদের অনুরোধ করব, তারা যদি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশকে ভালোবেসে থাকেন; স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হয়ে থাকেন, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে সম্মান দিয়ে থাকেন তাহলে তাদের উচিত অতিথিদের সম্মানের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে আগামী ২৬ মার্চ দুদিনের সফরে ঢাকায় আসবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে তার সফর নিয়ে বিভিন্ন ইসলামিক দলের পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়েছে। মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে কয়েকটি ইসলামী দল।